১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৯:৪৮:২৯
আইসিটি মামলা: জাতিসংঘের রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসিনা ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহে অতিরিক্ত সময়ের দাবিতে তাজুল
ঢাকা– আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) জানিয়েছে, বর্জিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ৪৫ জন অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতার অপরাধ মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।
প্রধান প্রসিকিউটর, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন, “প্রতিবেদন প্রায় সম্পূর্ণ, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার উপরের হাই কমিশনার (OHCHR) জুলাই-আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত গণবিদ্রোহের উপর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য সংযোজনের জন্য আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন।”
তাজুল আরো জানান, “আমরা রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুক্তভোগীদের থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রকাশ্য শুনানি পরিচালনা করছি এবং বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণাদি সংগ্রহ করছি। এই তথ্য যাচাই, ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ করতে আমাদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন, যাতে একটি নিখুঁত প্রতিবেদন আদালতের সামনে উপস্থাপন করা যায়।”
এই সময়ের দাবিকে সম্মানিত করে, বিচারপতি মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রমাণ সংগ্রহের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রেস সম্মেলনে তাজুল বলেন, “জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই-আগস্টের গণবিদ্রোহের সময় সংঘটিত অত্যাচার পূর্বনির্ধারিত অপরাধের অংশ ছিল এবং তা শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সংঘটিত হয়েছে।”
গতকাল, এক মামলার আওতায় ১৬ জনের মধ্যে প্রাক্তন ১১ জন মন্ত্রীকে আইসিটিতে হাজির করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন: আনিসুল হক, আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফারুক খান, দীপু মনি, ডঃ আবদুর রাজ্জাক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তাগির গাজী, জুনায়েদ আহমেদ পলক, সালমান এফ রহমান, তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, শামসুদ্দিন চৌধুরী মাণিক ও প্রাক্তন গৃহ সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
আইসিটি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, যথাযথ ও নিখুঁত প্রমাণ সংগ্রহের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার মাধ্যমে মামলার ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যাবে।