জাতীয়

রিজার্ভ না বাড়ার কারণ জানালেন আসিফ নজরুল

  ২০ মার্চ ২০২৫ , ৬:০৯:০৭

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে বাংলাদেশে রিজার্ভ না বাড়ার চারটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এই পোস্টটি মূলত সালাহউদ্দীন দোলন নামক এক ব্যক্তি লিখেছিলেন। আসিফ নজরুল বুধবার (১৯ মার্চ) ওই পোস্টটি শেয়ার করেন।

পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন একজন প্রশ্ন করেছিলেন অর্থ উপদেষ্টা থেকে, “গত সাত মাস ধরে টাকা পাচার বন্ধ থাকার পরেও কেন রিজার্ভ বাড়ছে না?” তবে অর্থ উপদেষ্টা এই প্রশ্নের সহজ উত্তর দিতে পারেননি। আসিফ নজরুল বলেন, যদিও অর্থনীতি এখন যোগ্য লোকদের হাতে, তারপরও কিছু কারণে রিজার্ভ বাড়ছে না।

এখানে আসিফ নজরুল পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, রিজার্ভ না বাড়ার চারটি কারণ হল:

১. বিদেশি ঋণ এবং সুদ পরিশোধ

বাংলাদেশ সরকার অনেক বিদেশি ঋণ এবং সুদ পরিশোধ করেছে, যার কারণে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এই পরিশোধের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

২. এলসি খোলার ওপর রেস্ট্রিকশন তুলে নেওয়া

আগে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল, যার ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা তাদের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে পারছিলেন না। তবে এখন এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে ব্যবসায়ীরা বাধাহীনভাবে এলসি খুলতে পারছেন। এর ফলে বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে, যা রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলছে।

৩. সরকারি আমদানির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা

সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পণ্য আমদানি করছে। যদিও এটি সাধারণ জনগণের জন্য উপকারি, কিন্তু এই আমদানির জন্য অনেক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, যা রিজার্ভে প্রভাব ফেলছে।

৪. আকুর সকল দেনা নিয়মিত পরিশোধ

বাংলাদেশ সরকার আকুর (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) সকল দেনা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করছে। এই নিয়মিত পরিশোধও রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ এতে অর্থের প্রস্থান হচ্ছে।

আসিফ নজরুল পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই চারটি কারণে রিজার্ভ বাড়ছে না, তবে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি জানান, রিজার্ভ কমছে না, তবে বাড়তেও পারছে না। বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল, এবং দেশের অর্থনীতি ভালভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “সবাই নিজের মতামত সঠিকভাবে মূল্যায়ন করুক, যাতে কেউ ভুল তথ্য ছড়িয়ে না দেয় এবং জাতিকে বিভ্রান্ত না করে।”

আরও খবর