২১ মার্চ ২০২৫ , ৪:০১:৫৩
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের খসড়া অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি থাকবে না। তাদের পরিচয় হবে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।
এ নতুন খসড়াটি জামুকার ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম স্বাক্ষর করেছেন। এই আইন সংশোধন অনুসারে, মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি আরও চার শ্রেণির মানুষের পরিচয় হবে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। এই চার শ্রেণির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন:
বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবদান রাখা পেশাজীবীরা
মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তারা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকরা
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
এমন পরিবর্তন হলে, চূড়ান্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার অন্তত ১০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় পরিবর্তিত হয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হবে।
ফারুক-ই-আজম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কেবল তারাই থাকবেন যারা রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। অন্যদের পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হবে। তবে, তাদের মর্যাদা বা সুবিধায় কোনো ক্ষতি হবে না।
তিনি আরও বলেন, বীরাঙ্গনা এবং সীমান্তবর্তী ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের চিকিৎসক ও নার্সদের বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামতও উঠে এসেছে। ইতিহাসবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারীদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়, তবে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালও জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ধরে রাখার জন্য রাজনীতিবিদদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করা উচিত নয়।
বিএনপির হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষক হারুন হাবীবও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তার নেতৃত্ব সম্পর্কে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই আইন সংশোধন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন শ্রেণীবিভাগ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তাতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।