একুশ প্রতিবেদন ২০ মার্চ ২০২৬ , ১:০৫:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২০ মার্চ, ২০২৬
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ীই নিয়োগগুলো সম্পন্ন হয়।
গত বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোকজনকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের জবাবে ফখরুল বলেন, “সমালোচনা তো থাকবেই। এখন পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট তার নিজস্ব পলিটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগগুলো হবে… এটা তো এমন না যে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত ফেরেশতা নিয়ে আনা হবে”।

যোগ্যতা ও মেধার পক্ষেই যুক্তি:
নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিপরীতে মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসির উদাহরণ টেনে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একাডেমিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তিনি সারাজীবন প্রথম শ্রেণির ফলাফল করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকার যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদেরই বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে রাজনৈতিক সরকার হিসেবে তাদের আদর্শিক বলয়ের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম।
পটভূমি:
উল্লেখ্য যে, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদেও পরিবর্তন আনা হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয় যে, নতুন সরকারও পুরনো দলীয়করণের পথেই হাঁটছে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতা:
মির্জা ফখরুল স্বীকার করেন যে সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্চাশা রয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাতারাতি আমূল পরিবর্তন আনা কঠিন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশ্লেষণ:
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে তাদের নিজস্ব অনুসারী বা সমমনা ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার নীতিকেই সমর্থন করছে, যাকে তিনি “রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, “ফেরেশতা আনা সম্ভব নয়” বলে দলীয় লোক বসানোর যুক্তিটি উচ্চশিক্ষার স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।















