১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:২৩:২৩
১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন চারটি আসন হলো-কক্সবাজার-৩, নোয়াখালী-৪, কুমিল্লা-৪, লক্ষ্মীপুর-২।

নয় হাজারের বেশি ভোটার রয়েছেন নয়টি আসনে। এগুলো হলো- লক্ষ্মীপুর-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, কক্সবাজার-১, কুমিল্লা-৩, সিলেট-৬, মুন্সীগঞ্জ-৩, চাঁদপুর-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, নোয়াখালী-২। আট হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো-ঢাকা-৮, মুন্সীগঞ্জ-১, চাঁদপুর-৩, চাঁদপুর-২, কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-৮, ঢাকা-১, ঢাকা-১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, রাজবাড়ী-২।
সাত হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন সংখ্যা ১১টি। এগুলো হলো-সিলেট-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, চাঁদপুর-১, চট্টগ্রাম-২, ঢাকা-১৫, কিশোরগঞ্জ-২, কুমিল্লা-২, যশোর-২, ঝিনাইদহ-২, লক্ষ্মীপুর-১, পার্বত্য খাগড়াছড়ি। ছয় হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসন সংখ্যা ২১টি। এগুলো হলো-নরসিংদী-৫, যশোর-৩, চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-১৬, মৌলভীবাজার-৩, বরিশাল-৫, শরীয়তপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, চট্টগ্রাম-১, মৌলভীবাজার-১, কিশোরগঞ্জ-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ঢাকা-১০, বরগুনা-১, ময়মনসিংহ-৪, সাতক্ষীরা-২, নরসিংদী-৪, সিলেট-৩, চট্টগ্রাম-১০, মাদারীপুর-৩, ঢাকা-৯। পাঁচ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে ৪৬টি আসনে। এগুলো হলো-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ঢাকা-১৭, চট্টগ্রাম-১১, লক্ষ্মীপুর-৪, চট্টগ্রাম-৭, সাতক্ষীরা-১, মুন্সীগঞ্জ-২, ফরিদপুর-৪, কুমিল্লা-৭, টাংগাইল-৬, ঢাকা-২০, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৮, মৌলভীবাজার-২, সুনামগঞ্জ-৫, ঢাকা-১৯, টাংগাইল-৮, ঝিনাইদহ-৩, গাজীপুর-৪, টাংগাইল-৩, পার্বত্য রাঙ্গামাটি, চুয়াডাঙ্গা-১, ঢাকা-১৪, চট্টগ্রাম-১৪, টাংগাইল-৫, মাদারীপুর-২, ময়মনসিংহ-১০, রাজশাহী-২, খুলনা-৩, রংপুর-৩, গাজীপুর-২, মানিকগঞ্জ-২, চুয়াডাঙ্গা-২, যশোর-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কিশোরগঞ্জ-৬, চট্টগ্রাম-৪, মাগুরা-১, বরিশাল-২, নেত্রকোণা-২, শরীয়তপুর-১, রাজবাড়ী-১, মাগুরা-২, টাংগাইল-২, বরগুনা-২, শরীয়তপুর-৩। পাঁচ হাজারের নিচে কিন্তু দেড় হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসনের সংখ্যা ১৭৬টি। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বাগেরহাট-৩ আসনে এক হাজার ৫৯৫ জন।
কোন জেলায় কত
জেলা ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুমিল্লাবাসী সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন, এক লাখ ১২ হাজার ৯০ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা জেলায় এক লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ হাজার ২৯৭ জন ও নোয়াখালী জেলায় ৬১ হাজার ২৫১ জন। অন্যগুলোতে ৫০ হাজারের নিচে নিবন্ধন হয়েছে। এক্ষেত্রে কম নিবন্ধন হয়েছে বান্দরবানে চার হাজার ৬৯৫ জন।
কোন দেশে কত
পোস্টাল ব্যালটের জন্য বাংলাদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে থেকে নিবন্ধন করেছেন সাত লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। আর ১২৩টি দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে সৌদি আরব থেকে দুই লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন, মালয়েশিয়া থেকে নিবন্ধন করেছেন ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতার থেকে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন, ওমান থেকে ৫৬ হাজার ২০৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩৮ হাজার ৫৭৪ জন, কুয়েত থেকে ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন, যুক্তরাজ্য থেকে ৩২ হাজার ৪১৪ জন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩১ হাজার ৬৪ জন, ইতালি থেকে ২৪ হাজার ৪৪৪ জন। অন্যান্য দেশ থেকে ২০ হাজারের নিচে নিবন্ধন হয়েছে। সর্বনিম্ন একজন করে নিবন্ধন করেছেন ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, গায়ানা, নাইজার ও জিম্বাবুয় থেকে।
নারী ও পুরুষের হার
মোট ভোটারের মতো পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধনকারী ভোটারের মধ্যেও নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি। তবে এক্ষেত্রে ব্যবধানটা বেশ বড়। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধনকারী নারীদের সংখ্যা দুই লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন আর পুরুষের সংখ্যা ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন।
কখন ভোট দিতে পারবেন
পোস্টাল ব্যালট হাতে পেলেও এখনই ভোট দেওয়া যাবে না। এজন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত। বর্তমানে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলছে আপিল কার্যক্রম। আপিল কার্যক্রম শেষে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্ধারিত হবেন। এরপর ২১ জানুয়ারি হবে প্রতীক বরাদ্দ। এক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভোট দেওয়া যাবে। এজন্য প্রতীক বরাদ্দের পরই ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের ভোট দেওয়ার জন্য অ্যাপে নিজের আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখবেন। সেখান থেকে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিয়ে ব্যালটে টিক চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। এবার সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের সঙ্গে গণভোটের ব্যালটেও ভোট দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে কোনো প্রার্থীর নাম নেই। কেবল প্রতীক দেওয়া আছে। এছাড়া ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে। ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোট বাতিল হবে।
কী বলছে ইসি
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ বিষয়ে বলেছেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমরা আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। নিবন্ধনের সময় ভোটারের দেওয়া ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোটাধিকার প্রয়োগে দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পোস্টাল ব্যালটের ভোটাররাও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবেন। কীভাবে ভোট দেবে
ব্যালট পেপার হাতে পাওয়ার পর অ্যাপে লগ ইন করে ব্যালট ট্র্যাকিং এ ক্লিক করতে হবে। এরপর ব্যালট পেয়েছি অপশন বাছাই করতে হবে। এরপর নিজের লাইভ ফটো দিয়ে খামের ওপর থাকা কিআরকোড স্ক্যান করলেই এ পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। পরে ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে অ্যাপে প্রবেশ করে প্রার্থীদের তালিকা দেখে ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিয়ে ‘ব্যালট খামে’ সংসদ নির্বাচন ব্যালট পেপার ও গণভোটের ব্যালট পেপার ভরে তা বন্ধ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে ‘ফেরত খামে’ ঘোষণাপত্র ও ব্যালট খাম ভরে বন্ধ করতে হবে। এ পর্যায়ে ফেরত খাম নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে ফেললেই তা চলে আসবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরত আসা খামের ভোট নির্বাচনের দিন গণনা করবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালট ভোটিংয়ে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে ব্যালট পৌঁছানো এবং তা ফেরত নিয়ে আসা। এজন্য পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধনকারীরা দেশের নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে ভোট দিতে পারবেন। যাতে নির্বাচনের আগেই ব্যালট এসে পৌঁছায়। ডাক বিভাগ জানিয়েছে সবচেয়ে দূরের দেশে একটি চিঠি পাঠাতে এবং আনতে ২৮ দিন লাগে। তাই দেশের ভোটারদের আগেই প্রবাসী ভোটাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা না করলে এনআইডি ব্লক
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগেই দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ভোটাররা। এক্ষেত্রে অনেকেই অতিউৎসাহী হয়ে পোস্টাল ভোটের ছবি প্রকাশ করতে পারেন। কিংবা অনেকেই রাজনৈতিক প্রচার চালাতে পারেন। ভোটের গোপনীয় রক্ষা করার ক্ষেত্রে এটা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি। এজন্য যারা এমন কর্মকাণ্ড করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়াও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সূত্র: বাংলানিউজ ২৪












