২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৯:৫৯:৫৬
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ চারজনের আজীবন ছাত্রত্ব বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আরও ৪৪ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ৪২ জনকে হল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার এবং দুইজনকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিস্কার করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার।
আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রুয়েট শাখার সভাপতি ও পুরকৌশল বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী ফাহমিদ লতিফ লিয়ন, সাধারণ সম্পাদক ও সিএসই বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সৌমিক সাহা, ছাত্রলীগ কর্মী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী শাশ্বত সাহা সাগর এবং পুরকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী মৃন্ময় কান্তি বিশ্বাস।
অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রুয়েট প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সব অভিযোগ যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে অর্ডিন্যান্স রয়েছে সেটির ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এ জন্য চার শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়ও ৪২ জনকে আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা করা হয়। গত বছরের ১৯ আগস্ট অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তাদের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৪২ জনের মধ্যে রুয়েটের প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী নাঈম রহমান নিবিড়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ডাটা প্রসেসর মো. মহিদুল ইসলাম, শিক্ষা শাখার সাব-এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার একেএম আনোয়ারুল ইসলামকে হল থেকে বহিস্কারসহ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রুয়েটের সংশ্লিষ্ট ফোরামে অনুরোধ করা হয়েছে। গত বছরের ১৯ আগস্ট অভিযানের সময় তাদের কক্ষে অস্ত্র ও মাদকসহ নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি পাওয়া যায়।
এছাড়াও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় দুইজনকে চার সেমিস্টার বা দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।