মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা: কিভাবে এই কোম্পানীরা লাইসেন্স পেলো??

ঠিকানাহীন ছয় আইজিডব্লিউ : বিটিআরসির পাওনা ৭৫০ কোটি টাকা

|সুমন আফসার|
মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। নেই পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা। এ ধরনের ছয় ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি টাকার বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় পাওনা আদায়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও আয় ভাগাভাগির অংশসহ অন্যান্য পাওনা নিয়মিত পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় অংকের এ বকেয়া পড়েছে। বকেয়া পরিশোধ না করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বেসটেক টেলিকম, রাতুল টেলিকম, কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশনস, টেলেক্স, ভিশন টেল ও অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশন। ছয় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সই বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। জানা গেছে, ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওনা রয়েছে ভিশন টেল লিমিটেডের কাছে ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পাওনা আদায়ে ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই বছর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) ও টেলিযোগাযোগ আইনেও আলাদা মামলা করা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। আইসিএক্স লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউড টেল লিমিটেডের সহযোগী কোম্পানি ভিশন টেল। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের এক মেয়ে। তবে বিটিআরসির দায়ের করা মামলার বিবাদীরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এসএম আসিফ শামস, পরিচালক রাসেল মির্জা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইরিন ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম ও শেয়ারহোল্ডার জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে আইরিন ইসলাম ও পরিচালক শরিফুল ইসলামকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতারও করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তারা। আরেক আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান বেসটেক টেলিকমের বকেয়ার পরিমাণ ১৩০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পিডিআর আইনের আওতায় সার্টিফিকেট মামলা করে বিটিআরসি। এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। একই বছরের জুনে গুলশান থানায় টেলিযোগাযোগ আইনেও মামলা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত করিম ও পরিচালক মামুন-উর-রশিদ রয়েছেন মামলার বিবাদী হিসেবে। অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশনসের কাছে পাওনার পরিমাণ ১২০ কোটি ১ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পিডিআর আইনে মামলা করে বিটিআরসি। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ আইনেও মামলা করা হয়েছে। অস্পষ্টতা রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়েও। শুরুর দিকে অ্যাপল গ্লোবাল টেলের মালিকানায় ছিলেন সোহেল আহমেদ, মনির আহমেদ, ইকবাল বাহার জাহিদ ও ইমদাদুল হক মোল্লা। আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান টেলেক্স লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ১০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পিডিআর আইনে মামলা দায়ের করা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। মামলা করা হয়েছে এনআই ও টেলিযোগাযোগ আইনেও। তিনটি মামলায়ই বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সঠিক নাম-ঠিকানাও পুনরায় দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স পেতে সুপারিশ করেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা। টেলেক্স লিমিটেডের বর্তমান মালিক আবদুর রহমান ও মুজিবুর রহমান। বিটিআরসির মামলায় এ দুজনকে বিবাদী করা হয়েছে। রাতুল টেলিকমের কাছে পাওনার পরিমাণ ১০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর পিডিআর আইনে মামলা করে বিটিআরসি। এর আগেই টেলিযোগাযোগ আইনে বনানী থানায় মামলা করা হয়। আবাসন খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রূপায়ণের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাতুলের নামে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মেয়ে সৈয়দা আমরিন রাখী প্রতিষ্ঠানটির ৫০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন। এছাড়া রাতুল টেলিকমের আরো ২০ শতাংশের মালিক নানকের স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু। এ দুজনের পাশাপাশি মামলায় বিবাদী করা হয়েছে শেয়ারহোল্ডার মাসুদুর রহমান বিপ্লব, সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, সাবেক পরিচালক আলী আকবর খান রতন, সাবেক পরিচালক মাহির আলী খান রতন, সাবেক শেয়ারহোল্ডার নওরিন জাহান মিতুল ও সাবেক শেয়ারহোল্ডার সাইফ আলী খান অতুলকে। সরকারের পাওনা ১০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশনস। এজন্য ২০১৪ সালের জুলাইয়ে পিডিআর আইনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করা হয়। একই বছর বনানী থানায় মামলা করা হয়েছে টেলিযোগাযোগ আইনেও। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান, ছেলে ইমতিয়ান ওসমান, শ্যালক তানভির আহমেদ, ঘনিষ্ঠ বন্ধু জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা। পরবর্তী সময়ে মো. শাখাওয়াত হোসেন, দেবব্রত চৌধুরী ও মো. রাকিবুল ইসলাম এটির মালিকানায় রয়েছেন বলে দেখানো হয়। যদিও মামলা করার পর তাদের কারো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা দাখিল করতে বলেছেন আদালত। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাওনা এ অর্থ আটকে থাকায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। সচিব ও বিটিআরসিকে এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে উদ্যোগ নেয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিআরসির কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পাওনা আদায়সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ বকেয়া অনেকদিনের উল্লেখ করে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সরকারের পাওনা এ অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, আইজিডব্লিউগুলো আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করছে। আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আসা কল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে অপারেটররা। দেশে আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৯টি। ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে চার প্রতিষ্ঠানকে এ লাইসেন্স দেয়া হয়। আর ২০১২ সালের এপ্রিলে নতুন ২৫টি প্রতিষ্ঠান আইজিডব্লিউ লাইসেন্স পায়। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় বর্তমানে কার্যক্রমে রয়েছে ২৩টি। সম্প্রতি আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

‘ট্রাম্প, আপনি আপনার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ – দোষী সাব্যস্ত...

ম্যানহাটনে বোমা হামলা

ছয় অভিযোগের সবক’টিতেই দোষী সাব্যস্ত আকায়েদ

নিউইয়র্কে বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টাকারী বাংলাদেশী যুবক আকায়েদ উল্লাহ মার্কিন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতের গ্র্যান্ড জুরি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের জন্য আকায়েদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। খবর এএফপি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর টাইম স্কয়ারের নিকটবর্তী পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের নিচের একটি টানেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টা চালান আকায়েদ। কিন্তু তার শরীরে বাঁধা পাইপ বোমাটি ঠিকমতো বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আকায়েদ। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহত অবস্থাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আকায়েদ স্বীকার করেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এ হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। তবে মামলার শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আকায়েদ কখনই আইএস সদস্য ছিল না। হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার জন্যই তিনি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। অন্যদিকে কৌঁসুলিরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আদালতে বলেন, আকায়েদ তার শরীরে এমনভাবে বোমা বেঁধেছিলেন, যেন অন্যদেরও ক্ষতি হয়। আর তিনি যে ইন্টারনেটে আইএসের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখতেন, তার কম্পিউটারেই সে বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টের গ্র্যান্ড জুরি আকায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে মত দেন। বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পদের ক্ষতির চেষ্টাসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। শুনানি শেষে মঙ্গলবার ছয় অভিযোগেই আকায়েদকে দোষী সাব্যস্ত করেন গ্র্যান্ড জুরি। ২৮ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহ ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে বাস টার্মিনালের নিচের টানেল ধরে হেঁটে যেতে ও নিজের শরীরে বাঁধা বোমাটি বিস্ফোরণের চেষ্টা চালাতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ঘটনার দিন সকালে আকায়েদ তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল, ‘ট্রাম্প, আপনি আপনার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ এছাড়া তার বাড়িতে ধাতব পাইপ, তার ও স্ক্রুর পাশাপাশি হাতে লেখা একটি চিরকুটও পাওয়া যায়।

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল : মাত্র তিন কোম্পানি দিয়েছে ৫৫% অর্থ

বদরুল আলম
দেশে প্রচলিত শ্রম আইনে গঠিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অর্থ জমা শুরু হয় ২০১৩ সালে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ৩১১ কোটি টাকা। এ অর্থ জমা দিয়েছে দেশী-বিদেশী ১২১টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও ইউনিলিভার বাংলাদেশই দিয়েছে মোট তহবিলের ৫৫ শতাংশ। শ্রমিকদের কল্যাণে গঠিত ফাউন্ডেশনে জমা দেয়া এ তিন প্রতিষ্ঠানের অর্থের পরিমাণ ১৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই বহুজাতিক। শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানেরও সবগুলোই বহুজাতিক। এর মধ্যে তহবিলে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। সর্বোচ্চ অর্থ প্রদানকারী পরের দুই কোম্পানি হলো তামাক খাতের ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও এফএমসিজিখাতের পণ্যের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। শ্রমিকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার অংশ জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে ২০০৬ সালের শ্রম আইনে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির মূলধন ২ কোটি টাকার বেশি অথবা মোট সম্পদ ৩ কোটি টাকার উপরে হলে বছর শেষে তারা যে মুনাফা ঘোষণা করে, তার ৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় করতে হয়। এ ৫ শতাংশের এক-দশমাংশ প্রদান করতে হয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন গঠিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে। আইন মেনে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে এখন পর্যন্ত ৯৪ কোটি ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৮ টাকা জমা দিয়েছে গ্রামীণফোন। এটাই একক কোম্পানি হিসেবে তহবিলে জমা দেয়া সর্বোচ্চ অর্থ। গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটারনাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, আইন মেনে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে সরকারের প্রাপ্য অর্থ নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের পরই এ তহবিলে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে তামাকজাত পণ্যের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। এ প্রতিষ্ঠানের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪০ কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫৬ টাকা। তহবিল সংগ্রহ শুরুর সময় থেকেই তারা শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে অর্থ জমা দিয়ে আসছেন বলে জানান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব আজিজুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দেশের অন্য সব আইনের মতোই শ্রম আইনও যথাযথভাবে পরিপালন করছে আমাদের প্রতিষ্ঠান। দেশী বা বিদেশী যে প্রতিষ্ঠানই হোক আইন সবার জন্যই সমান। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থা আইনটি পরিপালনের তদারকি বাড়ালে তহবিলে আরো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা দিয়েছে আরেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, যার পরিমাণ ৩৫ কোটি ৯৫ লাখ ৬৭ হাজার ১৩২ দশমিক ২৮ টাকা। তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটির জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১১ কোটি ৮০ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৩ টাকা। ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (পলিসি, এইচআরএম অ্যান্ড অ্যাডমিন) এসএম জাহিদ হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মুনাফার একটি অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়ার বিধান আছে। নিয়মিতই আমরা এ তহবিলে অর্থ জমা দিচ্ছি। এটি ব্যবহারের দায়ভার আমাদের নয়। তবে প্রত্যাশা থাকবে, তহবিলটি যেন যথাযথভাবে শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয়। টেলিকম খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেড রয়েছে তালিকার পঞ্চম স্থানে। প্রতিষ্ঠানটির জমা দেয়া অর্থের পরিমাণ গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ কোটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ২৬৩ টাকা। রবির পরই সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যার পরিমাণ ৯ কোটি ৯০৪ টাকা। জমা দেয়া অর্থের পরিমাণে দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়ালটনের পরই আছে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। তহবিলে প্রতিষ্ঠানটি জমা দিয়েছে মোট ৬ কোটি ৪৬ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৯ টাকা। এছাড়া মেঘনা পেট্রোলিয়াম জমা দিয়েছে ৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৬ হাজার ১২৫ ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ৫ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ২৮ টাকা। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা দিয়েছে বহুজাতিক ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ৫ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪ ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ৪ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৪ টাকা। দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেয়া এ তহবিল পরিচালনার জন্য তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন ২০০৬। শ্রমিক কল্যাণে কীভাবে এ তহবিল ব্যবহার হবে, তা-ও বলে দেয়া আছে এ আইনে। আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিক ও তার পরিবারের কল্যাণ সাধন, অসুস্থ বা অক্ষম কিংবা অসমর্থ শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য প্রদান, দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু ঘটলে তার পরিবারকে সাহায্য দেয়া হবে এ তহবিল থেকে। পাশাপাশি তহবিলটি থেকে শ্রমিকদের জন্য যৌথ বীমা ব্যবস্থার প্রবর্তন করাসহ শ্রমিকের পরিবারের মেধাবী সদস্যের শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডা. এএমএম আনিসুল আউয়াল বণিক বার্তাকে বলেন, তহবিলে জমা হওয়া অর্থের এক-তৃতীয়াংশই দিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। আর ৭০ শতাংশই দিয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর কারণ হয়তো তাদের কমপ্লায়েন্স মেনে চলার মানসিকতা। দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বর্তমানে খুব ধীরগতিতে হলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আইন অনুসরণে সচেতন হচ্ছে। আমরাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ক্রমেই এ তহবিলের আকার ও এ থেকে সহায়তা প্রদান অনেক বাড়বে বলে আশা করছি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে এ পর্যন্ত শ্রমিকদের ২৫ কোটি টাকারও বেশি সহায়তা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল থেকে সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুত করার জন্য সহায়তার আবেদন প্রেরণ ও গ্রহণ অনলাইনে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সহায়তার অর্থ মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এজন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।

আয়করের ৭ শতাংশ আসে রিটার্ন থেকে : কর আদায়ে সক্রিয় হোক...

রাজস্ব আয়ে আয়করের অংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও কেন যেন তা স্থবির হয়ে আছে। নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও আয়করের মাত্র ৭ শতাংশ আসছে রিটার্ন থেকে, ৬৭ শতাংশ আসছে উেস কর থেকে। বিশ্বব্যাপী আয়করের বড় অংশই আসে রিটার্নের মাধ্যমে। বছর শেষে রিটার্ন জমা দেয়ার মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করেন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। করযোগ্য নাগরিকদের কাছ থেকে আয়কর রিটার্নের মাধ্যমেই সম্পদের হিসাব ও কর আহরণ করা হয়। আমাদের এখানে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়করের পরিমাণ কম হওয়ায় করদাতা বাড়লেও এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ খুব একটা বাড়েনি। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়ের উৎস থেকে কেটে নেয়া করই আয়করে মূল অবদান রাখে।

আয়কর ফাঁকির মহোৎসবে পেশাজীবীদের এক বড় অংশ জড়িত বলে মনে করা হয়। এক্ষেত্রে আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী সবাই যেন একাট্টা। এনবিআরের তদন্তে পেশাজীবীদের কর ফাঁকির বিষয়টি ধরা পড়েছে। কর ফাঁকিবাজের তালিকায় রয়েছেন রাজনীতিবিদরাও।

আয়ের উৎস পেশাজীবীরা প্রকাশ করতে চান না। সরকার চিকিৎসকদের ফি নির্ধারণ করে দিলেও নির্ধারিত ফির চেয়ে তারা বেশি নেন। একইভাবে আইনজীবীরা তাদের মক্কেলের কাছ থেকে কত টাকা নেন, এরও হিসাব অন্য কেউ রাখে না। শিক্ষকরা স্কুল-কলেজের বাইরে প্রাইভেট পড়ালেও সে আয়ের তথ্য প্রকাশ করেন না। দেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের যে সাফল্য, তা ব্যবসায়ীনির্ভর। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে তারা যতটা সক্রিয়, ততটাই নিষ্ক্রিয় পেশাজীবীদের কাছ থেকে আদায়ে। ফলে দেশের লাখ লাখ পেশাজীবী এখনো আয়করের আওতায় আসেননি। তাদের নেই করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন। এমনকি দেশে কতজন পেশাজীবী করদাতা আছেন, কোন পেশার করদাতা কী পরিমাণ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন, এরও সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। পেশাজীবীদের আয়কর আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকায় সরকার প্রতি বছর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে এমন অসংখ্য কোটিপতি রয়েছেন, যাদের নাম আয়করদাতার তালিকায় নেই। যাদের নাম তালিকায় আছে তারা প্রকৃত আয় অনুযায়ী আয়কর দেন কিনা, সেটিও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে আয়কর ফাঁকির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অন্তত এক কোটি ব্যক্তিকে করজালের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া ২০২০-২১ সালের মধ্যে এ খাত থেকে মোট রাজস্বের ৫০ শতাংশ (বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ দশমিক ৪১ শতাংশ) আহরণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জন হওয়া উচিত এবং সম্ভবও। কারণ দেশের আর্থিক অবয়ব অনুযায়ী মোট রাজস্ব আয় খাতে আয়করের (২৭ শতাংশ) অবস্থান মূল্য সংযোজন কর বা মূসক (৩৮ শতাংশ) ও শুল্ক (৩৩ শতাংশ) খাতের নিচে থাকার কথা নয়। কারণ যে সমাজে ভোগ্যপণ্য ও বিলাসবহুল সামগ্রী আমদানি বাবদ ব্যয় বেশি, সে সমাজে আয়কর দেয়ার মানুষের সংখ্যা সামান্য, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এনবিআরের চেয়ারম্যানের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ কর দেয়। আমাদের ১৭ কোটি মানুষের দেশে এক কোটি মানুষকে কেন আয়করের আওতায় আনতে পারবে না এনবিআর, তা এক বড় প্রশ্ন। জাতীয় কর দিবসের এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্বেচ্ছায় করদাতাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি কর দেয়ার উপযুক্ত অনিচ্ছুক নাগরিকদের আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন। বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি জরুরি সিদ্ধান্ত, যা রাষ্ট্রের কল্যাণকামী সব নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তাই করজাল সম্প্রসারণ নীতির সুফল পেতে হলে সরকারকে অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে আয়কর দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিরা একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির ভেতর দিয়ে আয়কর দিতে বাধ্য হন। সাধারণভাবে মনে করা হয়, আয়করদানের যোগ্য ব্যক্তিদের সর্বাধিক ২৫ শতাংশ আয়করদাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। পদ্ধতিগত জটিলতা ও আয়কর বিভাগের হয়রানির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই করদাতাদের পকেট থেকে আয়কর খাতে যে অর্থ ব্যয় হয়, তা ভোগ করেন আয়কর আইনজীবী ও কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বর্তমান সরকারের আমলে আয়কর ব্যবস্থায় গতি আনতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও পদ্ধতিগত জটিলতা রয়েই গেছে।

‘অধিকার’ এর নিবন্ধন বাতিল

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত সংগঠন 'অধিকার' এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সোমবার সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। অধিকার নির্বাচন কমিশনে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন করলেও এটি মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন না থাকা, রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। মঙ্গলবার বিষয়টি জানিয়ে সংস্থার সভাপতিতে চিঠি দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো সংস্থাটিকে সংবিধিবদ্ধ কোনও প্রতিষ্ঠান অথবা এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত হতে হবে। অধিকার (নিবন্ধন নং-১৪)-এর এনজিও বিষয়ক বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৭ এর ৬-এর-২ উপধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো। তবে মাত্র ৪ মাস আগে সংস্থাটি ইসির শর্ত মেনে কাগজপত্র জমা দিয়ে পর্যবেক্ষকের নিবন্ধন নবায়ন করেছে। সাধারণত, কোনো সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করতে হলে বাতিলের আগে ইসি থেকে অভিযোগের বিষয়ে নোটিশ দেয়ার কথা। নোটিশ প্রাপ্তির ৫ দিনের মধ্যে সংস্থাটিকে শুনানির জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর ইসির সিদ্ধান্ত ৭ দিনের মধ্যে সংস্থাটিকে অবহিত করা হয়। কিন্তু অধিকারের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রে ইসি কোনও ধরনের শুনানির সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংস্থার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, অধিকার এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত নয়। এছাড়া তাদের কাগজপত্রে অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাই তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

লিটল বাংলাদেশে গ্যাং আতংক

কমিউনিটির শান্তি-শৃঙ্ঘলা বজায় রাখার আহবানে লিটিল বাংলাদেশে সভা

কিছুদিন ধরে একদল বখে যাওয়া বাংলাদেশী তরুণ কিছু ভিন দেশী গ্যাং মেম্বারসহ হাতুড়ি, বেইস বল ব্যাট, গলফ ক্লাব সহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েকটি গাড়িতে করে এসে অতর্কিতে লিটিল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বদেশী তরুণদের উপর হামলা, খোঁজা-খুঁজি ও ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। অবস্থার পরিপেক্ষিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার পূর্বে লিটিল বাংলাদেশের উৎকণ্ঠিত তরুণদের উদ্যোগে গত ১ লা নভেম্বর লিটিল বাংলাদেশে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা জনাব মাসুদ রব চৌধুরী ও পরিচালনা করেন সাইদুল হক সেন্টু। কমুনিটির শান্তি-শৃঙ্ঘলা বজায় রাখার আহবান ও আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে দোষী বখে যাওয়া যুবকদের আইনের হাতে তুলে দেবার আহবান জানান লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ কমুনিটির নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধি ড: জয়নুল আবেদীন, শামসুল ইসলাম, সোহেল রহমান বাদল, খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম প্রমুখ। সভায় গত ২৩শে অক্টোবর স্থানীয় বাংলাবাজারের সামনে গ্যাং হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা হাতুড়ি সহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই অতর্কিত হামলায় অংশ নেয়। তারা উপস্থিত কয়েকজনকে মারাত্মক আহত করে এবং অনেকের মাথার খুব কাছে বিপজ্জনকভাবে হাতুড়ি ঘুড়িয়ে আঘাতের চেষ্টা চালায়। অনেকে প্রাণভয়ে রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নেন। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার এরা সদলবলে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিনদেশি গ্যাং মেম্বার নিয়ে স্থানীয় কস্তুরী রেস্টুরেন্টে অতর্কিতে আবির্ভাব হয়ে কয়েকজনের নাম উচ্চারণ করে খুঁজে বেড়ায় ও ভীতির সঞ্চার করে। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে এইরূপ নিয়মিত হামলার ঘটনায় লিটিল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে শান্তিপূর্ণ লিটিল বাংলাদেশে বড় ধরণের কিছু ঘটার আশংকায় রাতে এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন। অনেকেই কমুনিটির মান ইজ্জত রক্ষায়, শান্তি-সৌহার্দ বজায় রেখে বাংলাদেশী গ্যাং মেম্বারদের পুলিশের হাতে তুলে দেবার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। আবার অনেকেই নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অনেক সময় আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে এইসব মারাত্মক অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে এদের সমুচিত শাস্তি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলে এরা ভবিষ্যতে আর গ্যাং এর দলে ভিড়তে দশবার চিন্তা করবে। অনেকে বলেন, গেল বছর অর্থমন্ত্রীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এরাই শ্লোগান দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করলে অনুষ্ঠানের ভলান্টিয়ার ও নিরাপত্তা রক্ষীরা এদেরকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এমনকি এদের আশ্রয়-প্রশয় দাতা একজন নেতাকে মন্ত্রীর সামনেই স্টেজ থেকে চ্যাং দোলা করে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওপর এক বক্তা বলেন, কয়েক মাস পূর্বে লস এঞ্জেলেস ভ্রমণরত আরেকজন মন্ত্রীর সামনে হোটেল লবিতে বেয়াদবির চেষ্টাকালে এদের নেতাকে কষে চপেটাঘাত করলে এরা কিছুদিন চুপচাপ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাবেক সভাপতি ও কমুনিটির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা সোহেল রহমান বাদল বলেন, গেল একুশে ফেব্রুয়ারীতে লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কন্সুলেটে এই গ্যাং তার উপর হামলা করে মহান শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দেয়। সেইসব গুন্ডামির ভিডিও গুলো পুলিশের হাতে তুলে দেবার উদ্যোগ নেন সভায় উপস্থিত কয়েকজন। মুনির শরীফ বলেন, জেলের ভিতরে গেলে এরা নিজেরাই তাদের বসদের নাম বলে দিবে নিজেকে বাঁচানোর তাগিদে। আর সকলে যখন একই ব্যক্তির নাম বলবে তখন এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ইন্ধন দাতারা আইনের শাস্তি থেকে পার পাবে না। ইলিয়াস টাইগার শিকদার বলেন, আমেরিকার আইনে হাতুড়ি একটি মারণাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি তার দোকানে হাতুড়ি দিয়ে ঘটে যাওয়া এক ব্যক্তির আহতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আক্রমণকারী ওই ব্যক্তি এখন দশ বছরের সাজা কাটছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সুষ্ঠুভাবে আইনি সহযোগিতা দিতে পারলে, অন্তত হাতুড়ি ওয়ালাকেও দশ বছরের জন্য জেলে পাঠানো সম্ভব হবে। এ পর্যায়ে সোহেল রহমান বাদল সকলকে সতর্ক করে বলেন, আগে যেভাবে কেউ জেলে গেলে খুব সহজেই বেইল বন্ডে ছাড়িয়ে আনা যেত, নুতন গভর্নর ক্যালিফোর্নিয়ায় সেই প্রথা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন থেকে সকলকে সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। হুমায়ুন কবির, তৌফিক সোলেমান তুহিন, শাহ আলম, সিদ্দিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, অপু সাজ্জাদ, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী, হাবিবুর রহমান ইমরান, রফিকুজ্জামান, শওকত হোসেন আনজিন, লিঙ্কন খান, মোর্শেদ খন্দকার, সাইয়েদুল হক সেন্টু, আলমগীর হোসেন, তাপস নন্দী, জামাল হোসেন, নূর আলম লাবু, জামিউল বেলাল, ইমাম হোসেন, ফয়সাল কোরেশী, ইকবাল হোসেন, হরে কৃষ্ণ, হাসানাত ভূইঁয়া, হাবিবুল ইসলাম সহ উপস্থিত সকলের বক্তব্যে ফুটে উঠে লিটিল বাংলাদেশের সৌহার্দ-ঐতিহ্য ধরে রেখে কমিউনিটিতে যে কোন অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের আকাঙ্খার দীপ্ত অঙ্গীকার। এদিকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ, আইনি পদক্ষেপ, নেইবারহুড ওয়াচ, একশন কমিটি প্রভৃতি বিভিন্ন দ্বায়িত্ব দিয়ে কয়েকটি কমিটি করা হয় সভায় উপস্থিত তরুণদের নিয়ে। লিটিল বাংলাদেশ নেইবারহুড ওয়াচ কমিটির উদ্যোগে প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে কমিউনিটি থেকে সন্ত্রাস দমনের সর্বশেষ আপডেট উপস্থাপন ও কমুনিটির সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করা হবে। লিটিল বাংলাদেশ নেইবারহুড ওয়াচ কমিটিতে রয়েছেন খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম, শামসুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, অপু সাজ্জাদ, ইলিয়াস টাইগার শিকদার, জহির উদ্দিন পান্না, হাবিবুর রহমান ইমরান, শওকত হোসেন আনজিন, শাহ আলম, রফিকুল ইসলাম, রফিকুজ্জামান, আসিফ, আলমগীর হোসেন, প্রমুখ। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মাসুদ রব চৌধুরী, ডঃ জয়নুল আবেদীন, সোহেল রহমান বাদল, তৌফিক সোলায়মান তুহিন, সিদ্দিকুর রহমান, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী, লিঙ্কন খান, মোর্শেদ খন্দকার, সাইয়েদুল হক সেন্টু, তাপস নন্দী, জামাল হোসেন, নূর আলম লাবু, জামিউল বেলাল, ইমাম হোসেন, ফয়সাল কোরেশী, ইকবাল হোসেন, হরে কৃষ্ণ, হাসানাত ভূইঁয়া, হাবিবুল ইসলাম প্রমুখ। আগামী ২৩ শে নভেম্বরের সভায় উপস্থিত উৎসাহী তরুণদের থেকে এই কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একশন কমিটিতে এ পর্যন্ত রয়েছেন মাত্র পাঁচ জন। ড: জয়নুল আবেদীন বলেন, একশন কমিটি সন্ত্রাস প্রতিরোধের বিবিধ উপায় নিয়ে ভাববেন এবং আমাদের দিক নির্দেশনা দিবেন। সবশেষে সভার সভাপতি বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মাসুদ রব চৌধুরী এই সংক্ষিপ্ত নোটিশের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের মধ্য দিয়েই এই সন্ত্রাস প্রতিরোধের পথ খোঁজার নির্দেশনা দেন। নতুন কয়েকজন নব্য তথ্য-সন্ত্রাসীর থাবা থেকে কমিউনিটিকে রক্ষাকল্পে সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও সিদ্দ্বান্ত নেওয়া হয়। রিপোর্টঃঃ

‘মি-টু’ ঝড়: ভয় পাচ্ছেন?

‘মি-টু’ ঝড়: ভয় পাচ্ছে?

তপন মাহমুদ যত বড় ঝড়ই হোক, একদিন ঠিকই থেমে যায়। হয়তো আবার আসবে বলে খানিক বিরতি নেয় কখনও। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে যে ‘মি-টু’ ঝড় উঠেছে, তা থেমে না থেকে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। আর এর ফলে, অনেকেরই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠতে শুরু করেছে। চোরের মনে কি তাহলে পুলিশ পুলিশ ডাকতে শুরু করে দিয়েছে? পুরুষতন্ত্রের চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার ভাঙতে শুরু করেছে নারীরা। আর তাতেই খোলস বের হতে শুরু করেছে অনেকের। যেসব পুরুষ যৌন হেনস্থা করে এতদিন নিশ্চিন্ত দিন যাপন করতেন, আরও শিকার খুঁজতেন, তাদের দিন মনে হয় শেষ হতে চললো। যারা ভাবতেন, আর যাই হোক এমন লজ্জার কথা বাইরে বলতে পারবেন না, তারা এবার উল্টো দিকে মুখ করে থাকলেও কালি এড়াতে পারবেন না। ‘মি-টু’ আন্দোলন নিয়ে কিছু বিতর্ক হতেই পারে। যারা অভিযোগ করছেন, তার সত্যতা কী? তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করছেন কিনা? আগে বলেননি কেন? হ্যাঁ, ঠিক আছে। ধানের মধ্যে চিটা থাকতেই পারে। কিন্তু ধানকে ছাড়াতে পারে কি কখনও? তার মানে এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে, দুনিয়াব্যাপী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী যৌন হয়রানির শিকার। আর পুরুষ তার মূল শিকারি। এই সত্যটাই, যা এতদিন ট্যাবু আকারে নারী বয়ে বেরিয়েছে নিচের ভেতরে, গোপন করেছে চাপা কষ্ট নিয়ে, সেটা ভাঙতে শুরু করেছে। ভাঙতে শুরু করেছে এই ধারণা যে, কোনও কিছুই গোপন নয়। উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের একটা কথা আমার খুব পছন্দ। তিনি বলেছেন, ‘গোপনীয়তা মানেই ষড়যন্ত্র’। আমরা যেটা গোপনে করতে পারবো, কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে পারবো না, বুঝতে হবে সেখানে ‘ঘাপলা’ আছে। সতীত্ব, সম্ভ্রম, পর্দা, লজ্জা-শরম, ইত্যাদি নারীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলে চালিয়ে দিয়ে সেই গোপনীয়তার ফল এতদিন ভোগ করেছে পুরুষ সমাজ। এবার আয়নায় মুখ দেখার পালা। আর একটা কথা পুরুষতন্ত্র যে তারই সৃষ্ট ট্যাবুকেই ব্যবহার করেছে, তা নয়। বরং পুরুষতন্ত্র পেশীশক্তি ও ক্ষমতাকেও ব্যবহার করেছে। ‘মুখ খুললে বিপদ হবে’– বলে হুমকিটাও দরকারে দিয়ে রেখেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশি মডেল প্রিয়তি ‘মি-টু’ শিরোনামে তার সঙ্গে হওয়া যৌন হয়রানির কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতদিন এই ঘটনার বিরুদ্ধে কিছু না বলতে না পারার পেছনে যতটা না ট্যাবু ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল ক্ষমতার ভয়। বলা যায়, এই ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনায় সমাজের তথাকথিত ট্যাবু, পুরুষতন্ত্রের চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার এতদিন নারীকে স্পাইরাল অব সাইলেন্সের খাঁচায় বন্দি করেছিল। সেই নীরবতা যখন একবার ভেঙেছে, তখন আদতে সব নারীই ভয়ের শৃঙ্খল খুলে নিজের কষ্ট আর যন্ত্রণা বলতে শুরু করেছে। এটি শুধু তাদের হালকাই করছে না, অনেক বড় সত্যকে সামনে হাজির করছে। পুরুষতন্ত্রের ভয়াবহতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। এমন ঘটনায় অনেকে নারীকেও হয়তো বলতে শোনা গেছে, ‘চেপে যাও লোকে কী বলবে?’ সেই ‘চাপিয়ে দেওয়া লোক-লজ্জার ভয়’ জয় করা নারীরা আগামী দিনের নারীর পথচলা কতটা মসৃণ করে দিচ্ছেন, তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। কিন্তু নারীর লড়াইয়ে এটি যে মাইলফলক ঘটনা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই সাহসী নারীদের স্যালুট। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আসলে কেমন? আমাদের সমাজ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছে? নাকি সমাজ এখনও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিচার করছে ‘মি-টু’ আন্দোলন। বিভিন্ন জন-পরিসরে এই নিয়ে আলোচনাটা খেয়াল করতে হবে আমাদের। তাহলে হয়তো বিষয়টা ধরতে পারা যাবে। এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের জন্য আরও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে, এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে। অন্য দেশের ‘মি-টু’ আন্দোলন নিয়ে গণমাধ্যম যতটা সরব, বাংলাদেশের কোনও নারীর অভিযোগ নিয়ে ততটা পারবে কি? অন্তত এখন পর্যন্ত সেটা দৃশ্যমান নয়। যদিও বড় আঘাত আসেনি এখনও। কিন্তু অভিযোগ ছোট করে দেখা উচিত কি? মূলধারার গণমাধ্যম এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকলে, তাদের নৈতিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। হয় তাদের এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, নয়তো এ নিয়ে আগে যেসব খবর প্রকাশ করেছে, তার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আর কেন এটি সংবাদ নয়, তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে। তারা যদি এসব সংবাদ ব্ল্যাক আউট করে দেয়, তা হবে তাদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। অথবা এটাও হতে পারে প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্ট কারও চাপে চেপে যাওয়া। যে ভয়টাই মডেল প্রিয়তি করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মি টু হ্যাশ ট্যাগ করেছেন সীমন্তি নামের একজন নারী। জানিয়েছেন, তার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তিনি। যখন আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম ভারতীয় ‘মি-টু’ আন্দোলন নিয়ে অনেক সংবাদ পরিবেশন করলো, তখন নিজদেশে ঘটে যাওয়া ‘মি-টু’ কেন মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচারিত হলো না, এটাও একটা বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে। তাহলে বিষয়টা কি এমন যে, দেশের বেলায় এক নিয়ম, ভিনদেশিদের বেলায় আলাদা? এ কেমন সংবাদমূল্য নির্ধারণপদ্ধতি? সূত্র অনুযায়ী দেশের ঘটনা তো নৈকট্যের কারণে আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা। আমরা আশা করবো, গণমাধ্যমও ‘মি-টু’ আন্দোলনের সঙ্গে তাদের নৈতিক সমর্থন জানাবে। অন্তত সংবাদমূল্য আগে যেমন দিয়েছে, দেশের ঘটনায় সে রকমই দিক। খালি নাটক সিনেমার লোকদের নয়, কাঠগড়া সবার জন্য! মনে রাখা ভালো, ঝড়ের পর একটা সুন্দর ঝলমলে রোদ আসে। সেই আলো হোক মুক্তির আলো। পারস্পরিক শ্রদ্ধায় বিশ্বাসে গড়ে উঠুক নারী পুরুষের সম্পর্ক–যা প্রকাশে কোনও ভয় থাকবে না, ভালোলাগা থাকবে। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

চালু হলো ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র

চালু হলো ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র কল সেন্টার ও ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উদ্যোগে ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চালু হলো ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র কল সেন্টার ও ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম। ভোক্তা কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই কল সেন্টারে ফোন করে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। ভোক্তাকে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা দেবেন কল সেন্টারের অপারেটরগণ। একজন ভোক্তা অভিযোগ দায়ের করলে ১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা করবে কল সেন্টার। এটি খোলা থাকবে শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ০১৯৭৭০০৮০৭১ ও ০১৯৭৭০০৮০৭২ নম্বরে ফোন করে কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও ভোক্তার সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসে চালু হলো অনলাইন পত্রিকা ‘ভোক্তাকণ্ঠ ডটকম’। ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত সংবাদ, বিশ্লেষণ, ভোক্তা অভিযোগের বৈশ্বিক চিত্র, বিশ্ব ভোক্তা আন্দোলন, বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের খবর মিলবে এই পত্রিকায়। www.voktakantho.com ওয়েব ঠিকানায় গেলে পত্রিকাটি দেখা যাবে। বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৭১ অডিটরিয়ামে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর। ভোক্তাকণ্ঠ ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ, সম্পাদক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রকাশক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার হামিদুল হক খান, প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম ও ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া।

‘মিটু’ বিতর্কের ঢেউ ভারতে

#মিটু: প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী যৌন পীড়নের শিকার

২০০৬ সালে #মিটু আন্দোলন শুরু হলেও ২০১৭-র ১৫ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়। লক্ষ লক্ষ মহিলা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। লিখছেন মিমি সরকার অতি সাম্প্রতিক কালে বিশ্বের সর্বত্র বহু আলোচিত এবং আলোড়িত একটি চর্চা হল #মিটু মুভমেন্ট। সর্বপ্রকার যৌন নিপীড়ন, যৌন হেনস্থা এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক নারী আন্দোলন। সম্প্রতি ভারত-সহ বিশ্বের প্রায় ৮৫টি দেশে #মিটু আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের আকার ধারণ করেছে। যা অন্য সব আন্দোলনের চেয়ে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। সমাজের সব ক্ষেত্রে, বিশেষত, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতি অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে মার্কিন অভিনেত্রী আলিসা মিলানো একটি হ্যাশট্যাগ মিটু নাম দিয়ে প্রচার শুরু করেন। টুইটারের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসার এক দিনের মধ্যেই যা দু’লক্ষ বার ব্যবহৃত হয়। মিলানো এবং তাঁর সহযোগী মাইকেল বাকের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যৌন হেনস্থার শিকার সব স্তরের মহিলাদের, তাঁদের সঙ্গে ঘটা ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে অনুরোধ করেন। এই ডাকে সাড়া দিয়ে হলিউড সেলিব্রিটি গিনেথ প্যালট্রো, আসলি জোর্ড, জেনিফার লরেন্স প্রমূখ নিজেদের কথা টুইট করে জানাতে থাকেন। যদিও এই আন্দোলনের সূত্রপাত ২০০৬ সালে মার্কিন সমাজকর্মী তারানা বারকের হাত ধরে। এই সময়ে #মিটু নামে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করে মাই স্কেপ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে তুলে ধরেছিলেন। ১৩ বছর বয়সী এক বালিকা তার প্রতি হওয়া যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তারানাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তৎক্ষণাৎ কিছু করতে না পারলেও তারানা প্রতিক্রিয়ায় মেয়েটিকে শুধু জানিয়েছিলেন #মিটু, অর্থাৎ ‘আমিও’। এবং তার হাত ধরেই শুরু হয় ‘এম্পাওয়ারমেন্ট থ্রু এমপ্যাথি’ অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সহানুভূতির আদর্শের দ্বারা ক্ষমতা প্রদান। বারকে উল্লেখ করেন, এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতা কখনওই একা নন এবং তাঁর লজ্জিত হবার কোনও কারণ নেই। কারণ, যৌন নির্যাতন নির্যাতিতার প্রতি অন্য কারও দ্বারা সংঘটিত হয়। তিনি দেখিয়েছেন, প্রায় ৭০ হাজার মহিলা, যাঁরা সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে কৃষিক্ষেত্র এবং ফার্মে কাজ করে দিনাতিপাত করেন, তাঁরা কীভাবে দিনের পর দিন বর্ণবৈষম্য এবং যৌন নির্যাতনের শিকার। কিন্তু পরিবারের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যের তাগিদে তাঁরা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে পারেন। এবং প্রতিনিয়ত ম্যানপাওয়ার এবং মাসেল পাওয়ার দ্বারা ভীতিপ্রদর্শনের ফলে ঘটনার অভিঘাত, দোলাচল থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি অভিনেত্রী, মডেল-সহ অন্য কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত মহিলারা কী ভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার, তা-ও প্রকাশ্যে এনেছেন। যাই হোক, ২০০৬ সালে #মিটু আন্দোলন শুরু হলেও ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যমে #মিটু আন্দোলন ভাইরাল হয়। লক্ষ লক্ষ মহিলা তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। হলিউড, সংগীত জগৎ থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, শিক্ষা, রাজনীতি, বাণিজ্য, ক্রীড়া, ধর্মীয় ক্ষেত্র, শিশুরা, এমনকি সেনাবাহিনীর ঘটনাও এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ হাজার মহিলা সেনা কর্মীর উপর নির্যাতনের ঘটনা পেন্টাগন তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হিসাব করে দেখিয়েছে, সমগ্র বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী কোনও না কোনও ভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার। এবিসি নিউজ এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের একটি সমীক্ষায় দেখিয়েছে, ৫৪ শতাংশ মার্কিন মহিলা তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। যার মধ্যে ৯৫ শতাংশ অভিযোগের কোনও বিচারই হয়নি। যা সত্যিই এক মারাত্মক অভিযোগ। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮-র অক্টোবর এই এক বছরে #মিটু আন্দোলন বিশ্বের ৮৫টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, আরব, ইজরায়েল, ব্রিটেন, ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন, রাশিয়া, চিন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য। এমনকি এই সব দেশের পার্লামেন্টেও #মিটু আন্দোলন নিয়ে জোরদার আলোচনা হয়েছে। এবং নারী নিগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত রকম আইন বিষয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। মার্কিন সেনেটর হেইডি হেট ক্যাম্প, ম্যেজি হিরোনো, এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রমূখ যৌন নির্যাতনের কথা সামনে নিয়ে এসেছেন। মার্কিন কংগ্রেসে ১৯৯৫ সালের কংগ্রেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট-এর সংশোধনী উত্থাপিত হয় এবং মিটু কংগ্রেস নামে তা পাস হয় #মিটু আন্দোলনের ফলস্বরূপ। ভারতে আজকের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিশ্লেষণ করলে #মিটু আন্দোলন এই মুহূর্তে ভীষণ ভাবে প্রাসঙ্গিক। উল্লেখ্য, ভারতে যৌন হয়রানি বা যৌন আক্রমণকে ইভটিজিংয়ের নাম দেওয়া হয়ে থাকে। যাতে এই অপরাধের বিচারকে সহজেই ভুল পথে পরিচালিত করা, নিস্তেজ করা, দুর্বল করা বা দমন করা যায়। কারণ, লিঙ্গ হিসাবে এখনও মহিলাদের পুরুষের সমকক্ষ করে গড়ে তোলা যায়নি। কিন্তু #মিটু আন্দোলন ভারতীয় মহিলাদের তাদের কর্মক্ষেত্রের অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে ভাবতে শেখাচ্ছে। এবং পুরুষদেরও এই বিষয়ে সচেতন হতে শিক্ষা দিচ্ছে বলা যায়। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সমাজকর্মী ইনজি পেনু এবং রায়া সরকার নামের ক্যালিফোর্নিয়াবাসী এক জন ভারতীয় ছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বন্ধুদের উদ্দেশ্যে ৬০ জন উচ্চশিক্ষিত এবং শিক্ষক হিসেবে প্রশংসিত প্রফেসর এবং শিক্ষকের নামের তালিকা প্রকাশ করে তাঁদেরকে এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেন। সতর্কীকরণ হিসেবে পোস্ট করা হলেও দ্রুত তা ভাইরাল হয় এবং সম্ভবত এখান থেকেই ভারতে মিটু আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

#মিটু জের, টাটা সন্স ছেঁটে ফেলছে সুহেল শেঠকে

‘#মিটু’ বিতর্কের জেরে চুক্তিতে কোপ পড়ল বিপণন বিশেষজ্ঞ সুহেল শেঠের। বিপণন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর কথা জানিয়ে দিল টাটা সন্স। সোমবার টাটা সন্সের মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, আগামী ৩০ নভেম্বর সুহেল শেঠের সঙ্গে চলতি চুক্তি শেষ হবে। এর পর আর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে না। সপ্তাহ কয়েক আগেই ‘মিটু’ বিতর্কের ঢেউ এসে লাগে সেলিব্রিটি কনসালট্যান্ট সুহেল শেঠের গায়ে। সুহেলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হন চার জন মহিলা। যাঁদের মধ্যে এক জন অভিযোগ করছেন, তিনি যখন নাবালিকা ছিলেন, সে সময় তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন সুহেল। এই বিপণন বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে যে চারজন মহিলা যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হন, তাঁদের মধ্যে এক জন পরিচালিকা নাতাশা রাঠৌর।পরিচালিকা নাতাশা রাঠৌর জানান, গত বছর সুহেল তাঁকে নিজের গুরুগ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। সাংবাদিক মন্দাকিনী গহলৌতের অভিযোগ, ২০১১ সালে একটি সম্মেলনে জোর করে তাঁকে চুমু খেয়েছিলেন সুহেল। সুহেলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রথম সামনে আনেন মুম্বইয়ের এক ২৬ বছর বয়সী তরুণী। ওই তরুণীর বয়স যখন ১৭ বছর ছিল, সে সময় সুহেল তাঁকে আপত্তিকর মেসেজ পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুম্বই নিবাসী ৩১ বছর বয়সী আরেক মহিলা অভিযোগ করেন, গত বছর একটি নামী রেস্তরাঁ এবং বারে সুহেলের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখানে সুহেল তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন।

মানহানি অপরাধের বিচার

মানহানি অপরাধের বিচার

আসিফ নজরুল ‘আপনি একজন ঘৃণ্য নারীবিদ্বেষী। আমরা সারা পৃথিবীর কাছে এটা দেখাব যে কী ধরনের ডাহা জোচ্চর আর মিথ্যাবাদী আপনি।’ ওপরের কথাগুলো বলা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। তাঁর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এ কথাগুলো বলেছেন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের আইনজীবী। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মানহানি মামলা হয়নি। ট্রাম্পের পূর্বসূরি ওবামার ওপর ক্ষিপ্ত মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য ওবামার নামে বের করা হয়েছিল টয়লেট টিস্যু। এ জন্যও কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। বাংলাদেশে আমরা এমন পরিস্থিতির কথা কল্পনাও করতে পারি না। বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বরং মানহানি মামলা হয় শক্তিমানদের পক্ষে, আরও নির্দিষ্টভাবে বললে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে। অথচ এটি মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে। আমেরিকা বা ইউরোপের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানহানির মামলা সাধারণত হয় বরং প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অসাধারণদের সম্পর্কে কিছু বলার জন্য মানহানি মামলা হয়েছে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা সেখানে। সাধারণ মানুষেরা মানহানি মামলা করলেও যে সেসব দেশের আদালত খুব উৎসাহিত হয়ে ওঠে তা–ও নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এই অভিযোগ খারিজ করে দেয় বাক্স্বাধীনতার স্বার্থে। ১৯৬৪ সালে আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট নিউইয়র্ক টাইমস বনাম সুলিভান মামলায় রায় দিয়েছিল যে কিছু মানহানিকর বক্তব্য বাক্স্বাধীনতা দ্বারা সংরক্ষিত। মানহানিকর বক্তব্যেরÿ ক্ষেত্রে এটিই আমেরিকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি। উন্নত বিশ্বে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে মানহানি লঘু একটি অপরাধ। মানহানি সেখানে দেওয়ানি অপরাধ, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হয় তাই শুধু অর্থদণ্ডে। মানহানি অপরাধের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা জামিন না দিয়ে আটক করে রাখা অকল্পনীয় বিষয় সেখানে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (পরে কাউন্সিল) তার বহু পর্যবেক্ষণে মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ ধারার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কমিশনের মতে, মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের বিধান থাকলে তা অপব্যবহারের বহু সুযোগ থাকে এবং সেটি হলে মানুষ স্বাধীনভাবে ন্যায্য কথা বলতেও ভয় পায়। মানহানিকে ডিক্রিমিনালাইজেশন (ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অব্যাহতিকরণ) করছে বহু দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কাও রয়েছে এর মধ্যে। ২. মানহানি সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন ভিন্ন, আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভিন্ন। বাংলাদেশের আইনে মানহানি দেওয়ানি এবং একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধ। তবে ফৌজদারি হলেও এটি বাংলাদেশের আইনেও লঘু একটি অপরাধ। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। ফৌজদারি কার্যবিধির ২ নম্বর তফসিল অনুসারে এটি জামিনযোগ্য, আমল–অযোগ্য এবং আপসযোগ্য অপরাধ। আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে এ ধরনের লঘু একটি অপরাধকেই বাংলাদেশে ভিন্নমত দমনের বড় অস্ত্র বানিয়ে ফেলা হয়েছে এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক কালে মানহানি মামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সম্পাদক, সাংবাদিক, সমাজের বরেণ্য ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলাগুলো করা হয়েছে সরকারের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বলার অভিযোগে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৮ ধারা অনুসারে মানহানির মামলা করার অধিকার রয়েছে শুধু সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির। অথচ গত কয়েক বছরে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী এমনকি দলের সঙ্গে কোনোরকম সংস্রবহীন ব্যক্তি মানহানি মামলা করেছেন অন্যের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগ তুলে। মানহানি মামলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে একই অভিযোগে একাধিক মামলা গ্রহণ। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ঘ ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই বিষয়ে থানায় এবং আদালতে দুটো ভিন্ন মামলা হলে আদালতের মামলাটি স্থগিত থাকে। এই বিধানের পেছনে যে চিন্তাগুলো কাজ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একই ঘটনায় কোনো মানুষকে বারবার ভোগান্তিতে না ফেলা এবং ভিন্ন সিদ্ধান্তের অবকাশ না রাখা। ‘নো পারসন শুড বি ভেক্সেড টোয়াইস’ নামে যে ন্যায়বিচারের সূত্র রয়েছে, তাতেও একটি ঘটনায় একাধিক মামলার কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশে খুনের মতো জঘন্য অপরাধেরও আমরা সাধারণত একাধিক মামলা দায়ের করতে দিতে দেখি না। তাহলে মানহানির মতো লঘু অপরাধে কীভাবে একই অভিযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মামলা গ্রহণ করে আদালতগুলো? ৩. মানহানি মামলায় তবু এত দিন আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না দিয়ে সমন দিত, আসামিকে জামিন দিতেও কোনো কার্পণ্য করত না। আইনে তা–ই করার কথা বলা আছে। কিন্তু সম্প্রতি আইনজীবী মইনুল হোসেনের ক্ষেত্রে এসব আইনও অনুসরণ করা হয়নি। তিনি একজন সাংবাদিককে টিভি টক শোতে ‘চরিত্রহীন’ বলার মতো অত্যন্ত আপত্তিকর একটি মন্তব্য করেছেন। এ জন্য অবশ্যই বিচার চাওয়ার অধিকার আছে আক্রান্ত সাংবাদিকের, এই বিচার হওয়াই উচিত। কিন্তু এ বিচারপ্রক্রিয়ায় এমন কিছু অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। ক. আমি আগেই ব্যাখ্যা করেছি ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি অভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয় না। বিশেষ করে বাদী নিজে সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করার পরে আইনজীবী মইনুলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে অন্যদের মামলা দায়েরের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। পরবর্তী মামলাগুলো আমলে নেওয়ার আগে আদালতগুলো অন্তত তদন্তের আদেশ দিতে পারত সিআরপিসি সেকশন ২০২ অনুসারে। খ. ২০১১ সালের ১ নম্বর আইনে ফৌজদারি কার্যবিধির ২ নম্বর তফসিলের ৪ নম্বর কলামে যে পরিবর্তন আনা হয় তাতে মানহানির অভিযোগের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টের পরিবর্তে সমন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। এই পরিবর্তনের পর মানহানির অভিযোগে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হওয়ার সমন না দিয়ে প্রথমেই গ্রেপ্তারের পরোয়ানা দেওয়া অযৌক্তিক ও নজিরবিহীন। গ. দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন দায়েরকৃত মানহানি মামলা একটি জামিনযোগ্য অপরাধ। জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া আসামির অধিকার। এমন একটি অপরাধে মইনুল হোসেনের জামিন মঞ্জুর না হওয়া শুধু অযৌক্তিক নয়, অস্বাভাবিকও। যে অপরাধ আমল–অযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়াই আপসযোগ্য, সেখানে জামিনের আরজি বাতিল হয় কীভাবে? মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে এই প্রশ্নসাপেক্ষ সিদ্ধান্তগুলো হয়েছে দণ্ডবিধির অধীনে দায়েরকৃত মামলায়। এখন তাঁর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হয়েছে অতি বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও। এই আইনে মানহানির মতো লঘু অপরাধকে অজামিনযোগ্য, আমলযোগ্য এবং তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়ার মতো বড় অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন: যে অপরাধকে এমনকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে না দেখানোর দায়দায়িত্ব রয়েছে ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তিটিতে, যে অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা বাদ দিচ্ছে একের পর এক রাষ্ট্র, সেখানে আমরা এই অপরাধকে আরও অনেক বেশি গুরুতর ও ভয়ংকর ফৌজদারি অপরাধ দেখিয়ে কীভাবে আইন করি? লঘু আইনই কী কঠোর আর অস্বাভাবিকভাবে প্রয়োগ হতে পারে ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে, তা আমরা মইনুল হোসেনের উদাহরণে দেখছি। এর সঙ্গে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ভয়ংকর বিধান যোগ হলে সমাজে এমনকি ন্যায্য কথা বলার ঝুঁকিও কেউ আর নেবে না। ৪. মইনুল হোসেনের মানহানি মামলার পর উচ্চ আদালতের কাছে কিছু বিষয় পরিষ্কারভাবে আমাদের তুলে ধরা উচিত। একই অভিযোগে একাধিক মামলা হতে পারে কি না? মানহানি মামলায় সংক্ষুব্ধ বলতে আসলে কাদের বোঝাবে? সমন দেওয়ার এবং জামিন দেওয়ার আইন থাকলে নিম্ন আদালত তার ব্যত্যয় ঘটাতে পারে কি না? মইনুল হোসেনের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু তা করতে হবে তাঁর আইনগত অধিকার রক্ষা করে। এসবের ব্যত্যয় বিনা প্রশ্নে মেনে নিলে মানুষের অধিকার রক্ষার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে আরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ পাবে সরকার। আসিফ নজরুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক

গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া...

কোনও প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো: ড. কামাল

‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো। আইনমন্ত্রী, তুমি যার চাকরি করছো, তাকে বোঝাও, এভাবে কথা বলা যায় না। তাকে বোঝানোর ক্ষমতা না থাকলে আমরা সাহায্য করবো। বই খুলে চোখে আঙুল দিয়ে তোমাকে দেখাবো।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে এসব দেখতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি। এটা আমাকে দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। একজন সিনিয়র আইনজীবী-বন্ধু আমাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নামে যা হচ্ছে, তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে?’ ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে আমি নিন্দা জানাই। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এখান (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নিয়ে গেছেন। আমি অবাক হয়েছি, তাকে সন্ধ্যায় নেওয়া (গ্রেফতার) হয়েছে, পরে তাকে অন্তরীণ করা হয়েছে। ঢাকায় এসে দেখি তার এখনও মুক্তি হয়নি। এটা কী শুরু করেছে? একটা সভ্য দেশকে সুন্দরবন বানাতে চাচ্ছে নাকি? না, সুন্দরবনকেও অপমান করা হয়। এটা জঙ্গল বানানো হচ্ছে। সরকার যা করছে, তা তো জানোয়াররাও করে না। বিনা কারণে কেন সরকার এসব করছে? মাথা খারাপ হয়ে গেছে এদের।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সংবিধানে আছে, দেশ শাসন করার সময় যাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, তাদের দ্রুত পরীক্ষা করাতে হয়। আমি বলি, বোর্ড গঠন করে সাইকিয়াট্রিক দিয়ে এদের পরীক্ষা করা হোক।’ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে রাতে গ্রেফতারের কঠোর সমালোচনা করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘মানহানির মামলায় রাতে গ্রেফতার করতে হবে, এমন কোনও নিয়ম আছে? জামিনযোগ্য মামলা। আইনমন্ত্রী অন্য কিছু না জানলেও তুমি তোমার বাবার সঙ্গে ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস তো করেছো? জামিনযোগ্য অপরাধ কী, তা তুমি জানো। তুমি যার চাকরি করো, তাকে বোঝাও যে জামিনযোগ্য অপরাধ এটা। আইনমন্ত্রী চোখ খোলো। দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করো। অন্ধকারে থাকা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! মইনুল হোসেন আইনজীবী। এই সরকার খুব ভালোভাবে তাকে চেনে। গতকাল রাতে সিলেটে শুনে আমি অবাক। তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে। এখানে এসে দেখি তিনি এখনও জেলে। তিনি কেন জেলে? কেন, কেন, কেন? এর উত্তর চাই।’ গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘এ সরকারের নাকি তথাকথিত একজন আইনমন্ত্রী আছেন। তোমার কাছে আমি উত্তর চাই। তুমি আমাদের একজন জুনিয়র ল’ইয়ার। তোমার বাবা আমার সহকর্মী ছিলেন, সিরাজুল হক বাচ্চু ভাই, তিনি আইনজীবী ছিলেন। তুমি কী হয়ে গেছো? তুমি আইন সব ভুলে গেছো? আসো, তোমার সঙ্গে আমরা আইনের বই দেখবো। কোন গ্রাউন্ডে মইনুল হোসেনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে? কৈফিয়ত চাই। গণতন্ত্র যখন দাবি করে, তখন জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। দায়িত্ব আছে তোমার। বলতে হবে তোমাকে।’ তিনি বলেন, ‘মইনুলকে গ্রেফতারের ঘটনা চরম স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছে সরকার। এটা গণতন্ত্র নয়। তুমি বোঝাও, গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। যে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। মইনুলকে অপমান করে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? কী অপরাধ করেছেন তিনি? এটা মানহানির মামলা। মানহানির মামলায় তো তিনি জামিন নিয়েছেন। আর কত মামলা করবে? এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তুমি মনে হয় সব ভুলে বসেছো। তুমি সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার শপথ নিয়েছো। তুমি যার চাকরি করছো, তিনিও শপথ নিয়েছেন। তোমাদের শপথের প্রত্যেকটা শব্দের ব্যাখ্যা আমাকে বোঝাও। আইনমন্ত্রী আমাকে তুমি বোঝাও। আমি তোমার কাছে সময় চাই। আমাকে বোঝাও, দেশে হচ্ছেটা কী? পার্লামেন্ট নাকি আছে। তথাকথিত একটা পার্লামেন্ট নাকি আছে। আরও দুইদিন পার্লামেন্ট আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তোমরা কৈফিয়ত দাও। পার্লামেন্টের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সেখানে বলো, যেন মানুষ জানতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তা সংবিধানের কোথায় আছে? আমি সিলেটে যা দেখেছি, অবাক কাণ্ড। আমাদের হোটেলের সামনে থেকে আটটা/দশটা করে ছেলে ধরে নিয়ে গেছে। কেন নিয়ে গেছে? কী শুরু হয়েছে, এটা বাংলাদেশ?’ জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এস এম কামালউদ্দিন, শাহ আহমেদ বাদল, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তাফা খান প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, গোলাম রহমান ভুইয়া, গোলাম মোস্তাফা, গাজী কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, কাজী জয়নাল, মির্জা আল মাহমুদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, সগীর হোসেন লিয়ন, শরীফ ইউ আহমেদ, শেখ তাহসীন আলী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

গার্মেন্টসের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের আওতায় ৩৭ লাখ শ্রমিক

বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস কারখানায় শ্রম অসন্তোষ হয়। এর সঙ্গে কারা জড়িত, এই তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা, শ্রম আইন বিরোধ কর্মকাণ্ড কিংবা শ্রম অসন্তোষে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে মালিকপক্ষ এর মাধ্যমে সহজে তথ্য জানতে পারবে। ফলে অন্য কারখানায় গিয়েও ওইসব শ্রমিকের কাজ পাওয়া কঠিন হবে।

গত তিন বছরে ২ হাজার গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে পেরেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তাতে দেখা গেছে, এসব কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা ৩০ লাখের কিছু বেশি। সেই হিসেবে প্রতিটি কারখানায় গড়ে দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করে। বিজিএমইএ’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পোশাক শিল্প মালিকদের আরেকটি সংগঠন বিকেএমইএ সূত্র জানিয়েছে, তাদের তথ্যভাণ্ডারে এসেছে আরো সাত লাখ শ্রমিক। একই কারখানা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ— উভয় সংগঠনের সদস্য হলেও আলোচ্য সাত লাখ শ্রমিক বিজিএমইএ’র তালিকায় আসেনি। সেই হিসেবে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে ৩৭ লাখ শ্রমিকের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত চলমান আরো প্রায় ৭শ’ কারখানা এখনো তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আসেনি। এ কারখানাগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের। অন্যদিকে বিকেএমইএ’র আরো প্রায় ১ লাখ শ্রমিক তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আসবে। সব কারখানা হিসাবভুক্ত হলে এ খাতে শ্রমিক সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি বলে মনে করেন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান ইত্তেফাককে বলেন, সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে ৮১০টি’র শ্রমিকের তথ্য নেওয়া হবে। এর মধ্যে ৭ লাখ শ্রমিক তথ্যভাণ্ডারের আওতায় এসেছে। এই সংখ্যা বিজিএমইএ’র তথ্যের বাইরে। আরো এক লাখ শ্রমিক যুক্ত হবে। অন্যদিকে এ দুটি সংগঠনের সদস্য নয়— এমন কারখানার শ্রমিক সংখ্যা যুক্ত হলে এ সংখ্যা ৪৫ লাখ পার হওয়ার কথা । এটি মূলত শ্রমিকের আঙ্গুলের ছাপসহ (বায়োমেট্রিক) তথ্যভাণ্ডার। এতে শ্রমিকের মৌলিক তথ্য, ঠিকানা, চার আঙ্গুলের বায়োমেট্রিক ছাপ, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, কোন প্রতিষ্ঠানে এবং কোন গ্রেডে চাকরি করে— এসব তথ্য পাওয়া যাবে। বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এ তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে সহযোগিতা করেছে। এ জন্য প্রতিটি কারখানাকে আকারভেদে ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। তাজরীন ফ্যাশন ও রানা প্লাজা ধসের পর এ খাতের শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডারের প্রয়োজনটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। কেননা নিখোঁজ শ্রমিক, শ্রমিকের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এ খাতের শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য সরকারকে চাপ দেয়। এরপর ২০১৪ সাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে বিজিএমইএ। তবে শুরুতে কারখানাগুলোর আগ্রহ না থাকায় এ কার্যক্রম গতি পায়নি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ফের উদ্যোগ নেয় বিজিএমইএ। এরপর গত তিন বছরে এ পর্যন্ত ৩ হাজার কারখানার শ্রমিককে তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, শ্রম আইনে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে কারখানা মালিকরা রপ্তানি মূল্যের উপর শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ (০.০৩%) হারে অর্থ জমা দিচ্ছেন। এসব অর্থে শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে বীমাসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে। এ জন্য কারখানাভিত্তিক শ্রমিকের প্রকৃত তথ্য জানা জরুরি। অবশ্য সূত্র জানিয়েছে, এই তথ্যভাণ্ডার তৈরির পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্য কাজ করেছে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস কারখানায় শ্রম অসন্তোষ হয়। এর সঙ্গে কারা জড়িত, এই তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা, শ্রম আইন বিরোধ কর্মকাণ্ড কিংবা শ্রম অসন্তোষে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে মালিকপক্ষ এর মাধ্যমে সহজে তথ্য জানতে পারবে। ফলে অন্য কারখানায় গিয়েও ওইসব শ্রমিকের কাজ পাওয়া কঠিন হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন তাদের গবেষণায়ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গার্মেন্টসে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে বলে ইঙ্গিত রয়েছে। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এই তথ্য যাতে নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কারখানা চালু হলে সেই তথ্য যুক্ত করার পাশাপাশি বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে এই তথ্যভান্ডারের ব্যবস্থাপনা এককভাবে কোন পক্ষের হাতে না রেখে ত্রিপক্ষীয় কমিটির মাধ্যমে করা যেতে পারে।

জামানতবিহীন ঋণ, নামমাত্র জামানতের বিপরীতে দেয়া ঋণের বড় একটি অংশ বর্তমানে...

নামমাত্র জামানতে বড় ঋণ

জুন পর্যন্ত এ ধরনের ঋণ আড়াই লাখ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের খতিয়ে দেখা উচিত - খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
-হামিদ বিশ্বাস ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট ঋণের ছড়াছড়ি। বড় অঙ্কের এসব ঋণের জামানত নেই বললেই চলে। জুন পর্যন্ত এ ধরনের বড় ঋণ আড়াই লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। জামানতবিহীন ঋণগুলো এখন খেলাপি হয়ে পড়ছে। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম শীর্ষ খেলাপির তালিকায়ও চলে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একশ্রেণীর অসাধু গ্রাহক ও ব্যাংকার কর্পোরেট গ্যারান্টির অপব্যবহার করছেন। কর্পোরেট গ্যারান্টির এগেইনিস্টে লোন বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ, ন্যাম গ্যারান্টির এগেইনিস্টে লেন্ডিং বা নাম পরিচিতি জামানত হিসাবে ব্যবহার করে ঋণ এবং পার্সোনাল গ্যারান্টির এগেইনিস্টে লেন্ডিং বা ব্যক্তি পরিচিতি জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া জামানতবিহীন এসব ঋণ ছাড়ে কিছু অসাধু ব্যাংকার গ্রাহকের সঙ্গে যোগসাজশ করে কমিশন গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, কোনো কর্পোরেট ঋণে সরকার গ্যারান্টার হলে অসুবিধা হবে না। তবে কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে বেসরকারি খাতে অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে খতিয়ে দেখা উচিত। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার ও একটি ব্যাংকের সাবেক এমডি যুগান্তরকে বলেন, এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে যে ঋণ ভাগাভাগি করেন সেক্ষেত্রে কর্পোরেট গ্যারান্টি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সোজা কথা- ব্যাংকের পরিচালককে দেয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের কোনো জামানত নেই। জামানতবিহীন এসব ঋণের বেশির ভাগই আদায় হয় না। ভবিষ্যতে এসব ঋণই খেলাপি দেখানো হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ বিতরণ করা হয় প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে (ফান্ডেড-নন ফান্ডেড) ঋণ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে দেয়া ঋণ এবং জামানতবিহীন ঋণের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। যদিও এটি বৈশ্বিকভাবে চর্চিত একটি ফর্মুলা। তবে আমাদের দেশে এর অপব্যবহার বেশি হচ্ছে। সে কারণে ফর্মুলাটি নানাভাবে পরিহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে দেয়া ঋণের বেশির ভাগই গেছে মাত্র ছয় ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ১ লাখ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ১৮ হাজার কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকের ১৮ হাজার কোটি টাকা, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ১৩ হাজার কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১১ হাজার কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে বাকি ঋণ গেছে ৫১ ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকাররা বলছেন, রূপপুর প্রকল্পের সব ঋণপত্র (এলসি) সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে খোলা হয়েছে। এ প্রকল্পের গ্যারান্টার সরকার নিজেই। এছাড়া সরকার আরও যেসব প্রকল্পে গ্যারান্টার রয়েছে সেসব প্রকল্পে সমস্যা হবে না। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানার প্রকল্পে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব অসাধু গ্রাহক, যারা আগে থেকে ব্যাংকিং খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি; তাদের কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ সুবিধাকে জামানতবিহীন ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব অসাধু চক্রের ঋণ কখনও ফিরে আসবে না। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকগুলোকে জামানতযুক্ত ঋণ বিতরণে নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বা এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে বেশি উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। কারণ এ খাতে ঋণ গেলে মানুষ এবং দেশের উন্নতি সমানভাবে হবে। সূত্র জানায়, জামানতবিহীন ঋণ, কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ বা নামমাত্র জামানতের বিপরীতে দেয়া ঋণের বড় একটি অংশ বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম শীর্ষ খেলাপির তালিকায়। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ চট্টগ্রাম ভিত্তিক কোম্পানি ইলিয়াস ব্রাদার্সের। ১৩টি ব্যাংকে প্রায় ৯১৫ কোটি টাকা ঋণখেলাপি এই প্রতিষ্ঠান। কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের ঋণখেলাপি প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে কোনো ধরনের জামানতও রাখা হয়নি। আর জামানত না থাকায় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব নয়। অর্থাৎ সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমেই নেয়া হয়েছে ঋণ। সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকত ঘেঁষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে ২৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ দেয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং শর্তও মানা হয়নি। পরবর্তী ২ বছরে মাত্র ৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে ইলিয়াস ব্রাদার্স। বাকি ২০৫ কোটি টাকা পরিশোধ না করে লোকসানি দেখানো হয় প্রতিষ্ঠানকে। বর্তমানে সুদ-আসল মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ২৯০ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, একই প্রতিষ্ঠান আরও ১২টি ব্যাংকে ঋণখেলাপি। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৭৩ কোটি টাকা, এবি ব্যাংকে খেলাপি প্রায় ৬৩ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকে ৫৮ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংকে ৫৫ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ৫৪ কোটি টাকা, এনসিসি ব্যাংকে ৫৩ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকে ৪০ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ায় ৩৪ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংকে ২৮ কোটি টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১৫ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংকে ইলিয়াস ব্রাদার্সের সাড়ে ৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। নিয়ম অনুসারে এক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ থাকলে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কথা নয়। কিন্তু এসব নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করেনি ব্যাংকগুলো। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে ম্যাক্স স্পিনিং মিলের খেলাপি প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা, বেনে টেক্সের ৫০১ কোটি টাকা, ঢাকা ট্রেডিং হাউসের ৪৯০ কোটি টাকা, আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের ৪৮৫ কোটি টাকা, সিদ্দিক ট্রেডার্সের ৪৪০ কোটি টাকা, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের ৪১৬ কোটি টাকা, আলফা কম্পোজিট টাওয়েল ৪০৮ কোটি টাকা, হলমার্ক ফ্যাশন ৩৪৬ কোটি, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৪০ কোটি, মন্নো ফেব্রিকস ৩৩৬ কোটি টাকা, ফেয়ার ট্রেডার্স ৩২৫ কোটি, সাহারিশ কম্পোজিট ৩১৫ কোটি, সালেহ কার্পেট মিলস ২৮৮ কোটি এবং ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিংয়ের ২৭৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। নামমাত্র জামানতের কারণে এসব খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। সরকারি ৬ ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটি জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ফান্ডেড (নগদ) ও নন-ফান্ডেড (এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টি) মিলে ১১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংক ৫ হাজার ৮৫ কোটি, অপর একটি সরকারি ব্যাংক ৪ হাজার ৩০৭ কোটি, রূপালী ব্যাংক ২ হাজার ৩৮১ কোটি, বেসিক ব্যাংক ১ হাজার ৬২৮ কোটি এবং বিডিবিএল ৩৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে ৩৬ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ১৪ হাজার ৫৫৩ কোটি, সাউথইস্ট ১৩ হাজার ৯১১ কোটি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ১৩ হাজার ৪০৯ কোটি, ব্যাংক এশিয়া ১২ হাজার ৮৫৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ১১ হাজার ৬৬৯ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার ২২৪ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার ১৮০ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১০ হাজার ৭৮৯ কোটি, যমুনা ব্যাংক ১০ হাজার ৩৪৯ কোটি, এনসিসি ব্যাংক ৮ হাজার ৮১৭ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ৭ হাজার ৮৭৯ কোটি, প্রাইম ব্যাংক ৭ হাজার ৮০৮ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৭ হাজার ৬৭৭ কোটি এবং ঢাকা ব্যাংক ৬ হাজার ৩৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বাকি ঋণ দিয়েছে অন্যান্য ব্যাংক। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ইসলামী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের এমডির কাছে অতিমাত্রায় ঋণ দেয়ার ব্যাখ্যা তলবের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জবাব সন্তোষজনক না হলে উভয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

যেসব নারী অভিযোগ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা

যৌন হয়রানি : পদত্যাগ ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

 
হ্যাশট্যাগ  মিটুতে একের পর এক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগের পর মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশিষ্ট সাংবাদিক এম জে আকবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বুধবার দুপুরে তিনি পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন। পদত্যাগপত্রে আকবর লিখেছেন, ‘যেহেতু আমি ব্যক্তিগতভাবে আদালতে বিচার চেয়েছি, তাই বিচারের স্বার্থে আমি আমার কার্যভার  থেকে ইস্তফা দেওয়াটাই সমীচিন মনে করছি। আমার বিরুদ্ধে যে সব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমি ব্যক্তিগতভাবেই আইনি লড়াই লড়তে চাই। তাই আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করছি।’ ৪ অক্টোবর সাংবাদিক প্রিয়া রামানি  টুইটারে  প্রথম এম জে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।  পরে প্রেরণা সিং বিন্দ্রা, ঘাজালা ওয়াহাব, সুতপা পালসহ একাধিক নারী আকবরের বিরুদ্ধে  অভিযোগ করেছেন।  আকবর অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।  তিনি ইতিমধ্যে রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছেন। সর্বশেষ রোববার আকবর জানিয়েছিলেন, এসব ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ অভিযোগের মুখে তিনি পদত্যাগ করবেন না। বরং অন্য যেসব নারী অভিযোগ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করবেন।

পুলিশের একাংশের এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাদারিত্বের উদ্বেগজনক অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত

কেন মৃত ব্যক্তিকেও আসামি করা হচ্ছে, প্রশ্ন টিআইবির

সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে ‘গায়েবি মামলায়’ ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত, বিদেশে অবস্থানরত এমনকি মৃত ব্যক্তিদের আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।এ জাতীয় দৃষ্টান্ত পুলিশের অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার পরিচায়ক উল্লেখ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এরূপ আত্মঘাতী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘গায়েবি মামলা’ দায়েরের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আসামি হিসেবে ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত, বিদেশে অবস্থানরত এমনকি মৃত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পুলিশের একাংশের এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাদারিত্বের উদ্বেগজনক অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত।  তিনি বলেন, সরকার তথা ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনা বা চাপের ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের দলীয় প্রভাবে প্রভাবান্বিত হওয়ার দৃষ্টান্ত নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তথা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনেকাংশে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিশ বাহিনীর একাংশ ঢালাওভাবে ঘটনার সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ নেই এমন ব্যক্তিবর্গকে মামলায় জড়ানোর দায় শুধু রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর দেয়া যাবে না।
রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে পুলিশের মতো প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হলেও কি কারণে মৃত ও দেশে বা ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে তা দেশবাসীর কাছে ব্যাখ্যা করার দায় পুলিশ কর্তৃপক্ষের।টিআইবি বলছে, প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, এটি কি পুলিশের একাংশের একান্তই অদক্ষতা না নগ্ন দায়িত্বহীনতা।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব একদিকে যেমন আইনের শাসনের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক অন্যদিকে পুলিশ বাহিনীতে এ ধরনের পেশাগত দুর্বলতা ও অদক্ষতা অব্যাহত থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়বে বিধায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বিবৃতিতে টিআইবি রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আহ্বান জানায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। একইসাথে, পুলিশবাহিনীকেও প্রভাবমুক্ত  হয়ে দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তা ও সৎসাহসের পাশাপাশি জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে এ জাতীয় আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.